AdvertisementAdvertisement

এলিয়ট পার্কের বেড়া অপসারণ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ময়দানের এলিয়ট পার্কের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত টিনের বেড়া অপসারণকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্কের বর্তমান ও অতীত অবস্থার দুটি ছবি পোস্ট করে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি কলকাতা পুরসভাকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এলিয়ট পার্কের চারপাশ উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে সাধারণ মানুষকে পার্কের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত করে এবং পার্কটিকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চৌরঙ্গী রোডের দিক থেকে এতদিন যে সুউচ্চ টিনের বেড়া পার্কের মনোরম সবুজায়ন ও প্রাকৃতিক শোভাকে আড়াল করে রেখেছিল, তা সরিয়ে নেওয়ায় এখন পথচলতি মানুষও পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন যে, এতদিন সাধারণ মানুষকে এই সুন্দর পরিবেশ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান পদক্ষেপের মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলিয়ট পার্কের এই বেড়া অপসারণ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর মাধ্যমে বর্তমান ও প্রাক্তন সরকারের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব পুনরায় প্রকট হয়ে উঠেছে। পার্কটিকে কেন্দ্র করে এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সবুজায়ন প্রকল্পের বেড়া সরানোর ফলে প্রাতর্ভ্রমণকারী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগের ফলে ময়দানের চিরচেনা খোলামেলা পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন জনপরিসরকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও অবাধ করে তোলার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%