শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যায় সিবিআইয়ের চার্জশিট পেশ, নাম জড়াল ১১ জনের

ভারতর বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে সংস্থাটি। এতে মোট ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুই কর্মীও রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত এই দুই ব্যক্তিই উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়াটে খুনি এনে চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিলেন।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা ভাড়াটে আততায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং খুনের জন্য অর্থের জোগান দিয়েছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, যদিও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে বেশ কয়েকবার সেই ছক ভেস্তে যায়। অবশেষে গত ৬ মে নিজ বাসভবনের মাত্র ৫০ মিটার দূরে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
সিবিআই এ পর্যন্ত এই মামলায় মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিংহসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর পাশাপাশি শুটআউটের সঙ্গে জড়িত তিন মধ্যস্থতাকারীকেও আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তিন মধ্যস্থতাকারীই ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে এবং অপরাধ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেও মামলার এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে, যার সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
গত বছর ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় ৬ মে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পরবর্তীতে সিবিআই গ্রহণ করে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, নির্বাচনের পূর্ব থেকেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে আততায়ীরা সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। যদিও চার্জশিটে অপরাধের ধরন ও অভিযুক্তদের ভূমিকার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে, তবুও হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনও ধোঁয়াশায় ঘেরা। ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক বিবাদ নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—কোনটি এই হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই। কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন কিংবা গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
