বিনিয়োগের বদলে কর্মসংস্থানকেই শিল্পে প্রণোদনার মাপকাঠি করতে চলেছে রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সংকট কাটাতে নতুন পথ খুঁজছে রাজ্য সরকার। বিনিয়োগের নিরিখে নয়, বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক কত সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সরকারি প্রণোদনা প্রদানের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত ‘উত্তরণ ২০২৬: বাংলা, বিল্ডিং দ্য নেক্সট গ্রোথ’ শীর্ষক কনক্লেভে এই নতুন ভাবনাচিন্তার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হতে পারে। অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে এবং শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই নতুন নীতিতে কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দেওয়া বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা ও সহায়তামূলক প্রকল্পগুলোকে চাকরির সুযোগ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমেই রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরাতে চাইছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন শিল্পনীতিতে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থা এবং ল্যান্ড ব্যাংকের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরের শিল্পখরা কাটিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চেষ্টা চলছে, তাতে স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থানকে মূল ভিত্তি করতে চাইছে সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো ইনসেনটিভ প্রকল্পগুলোকেও নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ইতিমধ্যে বেঙ্গালুরুতে বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত এক সামিটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিগত সরকারের শিল্পবিরোধী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, অতীতের শাসকরা জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা প্রদান করত না, যার ফলে রাজ্যে শিল্পের মরুভূমি তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি পালটে দিতে বদ্ধপরিকর এবং শিল্পপতিদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
