জনগণনার কাজে শিক্ষকরা, পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক

২০২৭ সালের জনগণনার কাজ চলাকালীন বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষকদের জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে হবে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের বাইরে কিংবা সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ‘অন-ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শিক্ষক মহলের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শিক্ষকরা শুরু থেকেই বিদ্যালয় বহির্ভূত কাজে নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বাধ্য হয়ে এই দায়িত্ব পালন করতে হলে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি জানিয়েছেন, যদি এই নির্দেশিকা বলবৎ থাকে, তবে জনগণনায় যুক্ত থাকা দিনগুলোর জন্য শিক্ষকদের অবশ্যই অন-ডিউটি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প হিসেবে তিনি অন্য কোনো পন্থায় এই কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে চলতি মাসের পয়লা তারিখ থেকেই জনগণনার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে, যা মূলত অনলাইন স্ব-গণনা বা স্বপঞ্জিকরণ প্রক্রিয়ায় চলছে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এরপর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের কাজ, যেখানে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করবেন রাজ্যের শিক্ষকরা।
ভারতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর এই কাজকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইতোমধ্যেই গণনাকারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেইসব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করবেন, যারা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেননি। এছাড়া, যারা অনলাইনে তথ্য জমা দেবেন, তাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নেবেন গণনাকারীরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
