রাজ্যে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার প্রস্তাব শমীক ভট্টাচার্যের, সিঙ্গুরসহ চারটি স্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার আর্জি

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প খরা কাটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যের শিল্পায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের আওতায় একটি রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র বা ‘কেমিক্যাল পার্ক’ গড়ে তোলার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। চিঠিতে তিনি ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সিঙ্গুরকে এই প্রকল্পের জন্য প্রধান স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩,০৩০ কোটি টাকার ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে তিনটি ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক স্থাপন করা হবে, যার প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র ১,০০০ কোটি টাকা অনুদান দেবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে রাজ্য সরকারকে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি ২,০০০ একর জমির সংস্থান করতে হবে। শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার এই প্রাথমিক বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ বেসরকারি পুঁজি আকর্ষণে সহায়ক হবে।
চিঠিতে সিঙ্গুরের পাশাপাশি হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরকেও প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই কেমিক্যাল পার্ক প্রতিষ্ঠিত হলে রাসায়নিক, নির্মাণ, লজিস্টিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি এবং অটোমোবাইল শিল্পও সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর প্রস্থানের পর থেকে জমি ও শিল্পায়ন নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সিঙ্গুরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পুনর্বিবেচনার দাবিটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই উদ্যোগে আগ্রহী হলে কেন্দ্রীয় স্তরে যাবতীয় সমন্বয় সাধনে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এখন রাজ্য সরকার নতুন শিল্পনীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবের বিষয়ে কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
