বাঁকিপুর উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, উত্তেজনার কেন্দ্রে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ডিপফেক বিতর্ক

বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে নেমে এই কেন্দ্র থেকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি আত্মপ্রকাশ করছেন ‘জন সুরাজ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই নির্বাচন তাঁর জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

বিজ্ঞাপন

এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর দাবি, শাসক বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ তাঁর দলের অসংখ্য কর্মী ও সমর্থককে অন্যায়ভাবে আটক করেছে। ঘটনার সূত্রপাত জক্কানপুর থানায়, যেখানে নিজের কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এসএইচও ঋতুরাজ কুমার সিংয়ের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরকে তুমুল তর্কে জড়াতে দেখা যায়। কিশোর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আটক কর্মীদের কোনো ক্ষতি হলে দায়ভার এসএইচও-কে নিতে হবে এবং তাঁর চাকরি পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এনডিএ জোটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নীতীশ কুমারের একটি ভিডিও বার্তা নিয়ে তোপ দেগেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ ‘ডিপফেক’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেবেন। তাঁর অভিযোগ, হারের ভয়ে দিশেহারা হয়ে বিজেপি এই ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।

বিজেপি ও জনতা দল ইউনাইটেড অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। জেডি(ইউ)-এর রাজ্য সভাপতি উমেশ কুশওয়াহা পাল্টা দাবি করেছেন যে, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় হতাশা থেকে প্রশান্ত কিশোর সস্তা প্রচারের কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে সাধারণ মানুষ কোনটি সত্য আর কোনটি কৃত্রিম ভিডিও, তা সহজেই অনুধাবন করতে সক্ষম।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই উপনির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। এখানে শাসক বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার বিপরীতে লড়ছেন আরজেডির রেখা গুপ্ত এবং জন সুরাজের প্রশান্ত কিশোরসহ মোট ২৬ জন প্রার্থী। প্রায় ৩.৮০ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। বিজেপি বিধায়ক নীতিন নবীন রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%