AdvertisementAdvertisement

সপ্তম বেতন কমিশনের নেতৃত্বে রদবদল, নতুন চেয়ারম্যান নবীন প্রকাশ

পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের মাত্র আট দিনের মাথায় এর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। অবসরে যাওয়া আইএএস কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব অতনু চক্রবর্তীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা নবীন প্রকাশ। এমন আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে প্রশাসনিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কমিশনের কাজের পরিধি বা নীতিগত কোনো রদবদল ঘটানো হয়নি।

গত ২২ জুলাই রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশনের সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে কমিশনের প্রধান হিসেবে অতনু চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তার এক সপ্তাহ পর নতুন নির্দেশিকা জারি করে নবীন প্রকাশকে কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কমিশন ও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একলাফে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত বেতন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এখন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকার ঘোষিত কমিশনের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারি, সরকার-পোষিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি, পদোন্নতির নীতি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করবে এই কমিশন। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা ও অবসরপ্রাপ্তদের ডিআর বৃদ্ধির হার নির্ধারণের দায়িত্বও কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কমিশনকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কমিশনের কর্মপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করার আগে সমপদমর্যাদার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, রাজ্যের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে কেন্দ্রীয় মানদণ্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন এই কমিশনের ওপর। চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এলেও রাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কমিশন তাদের কাজ সম্পন্ন করবে এবং কর্মীদের স্বার্থে দ্রুত সুপারিশমালা জমা দেবে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বেতন সংশোধন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে নতুন চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%