মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ৫

মণিপুরে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং জঙ্গি তৎপরতা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান আরও জোরদার করেছে। গত বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ইম্ফল পূর্ব জেলায় হাতবোমা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। একই দিনে অন্য তিনটি অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য এবং চাঁদাবাজিসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ইম্ফল পূর্ব জেলার আন্দ্রো থানার শান্তা বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে হাতবোমা বিক্রির প্রস্তুতিকালে রুহিদা বেগম (৪৬) ও রোহানা বেগম (১৮) নামের দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি সক্রিয় হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগৃহীত হয়েছে এবং এর পেছনে বড় কোনো অস্ত্র পাচারকারী চক্র সক্রিয় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
একই সময়ে ইম্ফল পশ্চিম জেলার নর্থ এওসি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মইরাংথেম সঞ্জয় ওরফে আয়া (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জনবহুল এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি .৪৫ এনপিবি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির (কেসিপি-নোংদ্রেনখোম্বা) সক্রিয় সদস্য লুয়াংথেম রোনিতা দেবী ওরফে তোরো (২৪)-কে ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই হেইখরুমাখং এলাকা থেকে আটক করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় বিষ্ণুপুর জেলার নম্বোল এলাকা থেকে ওইনাম নিকারসন সিং (২৭) নামের একজনকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পিপলস ইউনাইটেড ইয়ুথ অ্যালায়েন্স নামের একটি অনিবন্ধিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাড়ি থেকে তিনটি রসিদ বইসহ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত বেশ কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
মণিপুরে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক চোরাচালান এবং তোলাবাজি নির্মূলে রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তকারীদের মতে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের মূলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও নথিপত্রের সূত্র ধরে আরও বড় কোনো চক্রের হদিস পাওয়ার আশা করছেন কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
