প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক সরকারের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধীরা

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের লোকসভা। ‘পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি দাবি করেন, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই কঠোর আইন অপরিহার্য। বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে অনিয়মের যে নজির তৈরি হয়েছে, তা ঠেকাতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই বিলকে সমর্থন জানালেও সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আইন আনার পরও কেন ২০২৬ সালে পুনরায় সংশোধনী আনতে হচ্ছে, তা সরকারের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার আগুন লাগিয়ে নিজেই তা নেভানোর নাটক করছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি চেয়ে প্রশ্ন তোলেন, পড়ুয়ারা কি জঙ্গি যে তাদের ওপর এমন নৃশংস পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সংসদে বিতর্কের সময় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ এই বিলটিকে কেবল লোক দেখানো বা ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, পূর্বের আইন নিশ্ছিদ্র হলে এত বড় আকারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, সমস্যার মূলে নজর না দিয়ে কেবল ইনস্টাগ্রামে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে সরকার কেবল প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষার চেষ্টা করেছে। তিনি সরকারকে তরুণদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, প্রশ্নপত্র পরিবহণে ভারতীয় বায়ুসেনাকে ব্যবহারের সিদ্ধান্তই সরকারের অযোগ্যতার চূড়ান্ত প্রমাণ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকার নতুন নতুন আইন বা বিল এনে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে, কিন্তু এতে পড়ুয়াদের যে মানসিক বিপর্যয় ও স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা, তার কোনো সমাধান নেই। এদিকে আরএসপি সাংসদ এনকে প্রেমচন্দ্রন বিলটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সংসদীয় বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী পক্ষ যে প্রবল চাপে ফেলেছে, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%