পিওকে-তে ভোটগ্রহণে ব্যাপক সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মী নিহত

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি, সহিংসতা এবং কারচুপির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। গত ২৭ জুলাই মিরপুর ডিভিশনে অনুষ্ঠিত এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ, রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষের হতাহতের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভিম্বার জেলায় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় দুষ্কৃতকারীরা একটি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে ভেতরে থাকা সকল ভোটপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোটলি জেলার নাকিয়াল এলাকায় পাকিস্তান পিপলস পার্টির দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় মুখতার ইউনুস নামের তাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এলএ-১ মিরপুর আসনের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভোট গণনায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছে। নিরপেক্ষ গণনা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী সামগ্রী সুরক্ষিত রাখতে কমিশনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে দলটি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ ও দমন-পীড়নের অভিযোগও উঠে এসেছে।

জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাওয়ালকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। সংগঠনটির অভিযোগ, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে নস্যাৎ করতেই এই নির্বাচনকে লোক দেখানো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান প্রশাসন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এবার প্রথমবারের মতো তিন দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বিজ্ঞাপন

তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মুজফফরাবাদ ডিভিশন এবং আগামী ১০ আগস্ট পুঞ্চ জেলায় তৃতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৩৮ লক্ষ ভোটারের এই তথাকথিত নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও জনবিক্ষোভের জেরে ভোটারদের অংশগ্রহণ আশঙ্কাজনকভাবে কম ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা বাহিনীর উপস্থিতিও সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত সরকার বরাবরই স্পষ্ট করে বলেছে যে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে এই ভূখণ্ডের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। নয়াদিল্লির মতে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি আসলে দশকের পর দশক ধরে চলা দেশটির শোষণ, দমননীতি এবং চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন। আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর এই বর্বরোচিত দমন-পীড়নের ঘটনায় ভারত সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%