কাশ্মীর নিয়ে রাজনাথের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ পাকিস্তানের কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ তুঙ্গে

জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা কেবল পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ একে উস্কানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এক সরকারি বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত বাস্তবতাকে বিকৃত করছে। তাদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধ এবং এটি এখনও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থানকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের ভাষ্যমতে, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি সেখানকার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হওয়া উচিত এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাব অনুযায়ী সমস্যার সমাধানই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। পাকিস্তান ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এই অবস্থানকে নাকচ করে আসছে।
ভারতের দীর্ঘদিনের সুষ্পষ্ট অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অভ্যন্তরীণ অংশ এবং এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই। ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্ন উঠলে তা কেবল সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ বন্ধের বিষয়বস্তুকে ঘিরেই হতে পারে। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারত বারংবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, কাশ্মীর একান্তই দ্বিপাক্ষিক ইস্যু এবং এতে কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের পর পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। অতীতেও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতীয় নেতাদের যেকোনো বক্তব্যের বিপরীতে ইসলামাবাদ একই ধরনের কড়া বিবৃতি দিয়ে এসেছে। সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ ও নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্থিরতার কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিবৃতি মূলত তাদের গতানুগতিক সরকারি অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে ভারতও কাশ্মীর প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে এই ইস্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক মতপার্থক্য এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যে অদূর ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে, তা এখন স্পষ্ট।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
