ভারতের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে ভারতসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন এই নীতি অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তে ভারতের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। একই সময়ে চীন, জাপান, ইসরায়েল ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চহারে শুল্ক বসানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করে কম খরচে পণ্য উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নেওয়া মার্কিন শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। এই অশুভ চর্চা রোধ করতেই মার্কিন প্রশাসন এই শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তে এই নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এক মাস ধরে বিস্তৃত আইনি পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, এর আগে ট্যারিফ নীতি নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যার প্রেক্ষিতে নতুন আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা থাকলেও ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, জোরপূর্বক শ্রম রোধে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রদর্শন করায় দেশটির ওপর তুলনামূলক কম, অর্থাৎ ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ভারত ছাড়াও কানাডা, মেক্সিকো, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রিটেনসহ মোট ১৭টি দেশকে এই ১০ শতাংশ শুল্কের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
তবে যেসব শিল্পক্ষেত্রে আগে থেকেই উচ্চহারে শুল্ক বলবৎ রয়েছে, সেখানে এই নতুন সিদ্ধান্তের কোনো বাড়তি প্রভাব পড়বে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় বহাল রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
নতুন এই শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের সমীকরণ পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের রপ্তানি বাণিজ্যে এই সিদ্ধান্ত কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন বিশ্ব অর্থনীতির নজর সেই দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস