বাংলায় শিল্পায়নের নতুন পথরেখা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর হুশিয়ারি ও বিনিয়োগের বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের শিল্পায়নে ‘ডাবল ইঞ্জিনের’ জাদু কার্যকর হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শিল্পক্ষেত্রে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

বিজ্ঞাপন

বাম আমলের শ্রমিক অসন্তোষ এবং ইউনিয়নগুলোর দৌরাত্ম্যকে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছরে রাজ্যে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। কারখানার গেটে তালা দেওয়া বা ভাঙচুর চালানোর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। ‘নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি’—এই নীতি কার্যকর করতে প্রয়োজনে গুন্ডা দমন আইনের প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরকারি স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এখন থেকে আর শিল্পপতিদের মিউনিসিপ্যালিটি বা পঞ্চায়েতে বাড়তি টাকা বা কাটমানি দিতে হবে না। ব্যবসার লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হয়েছে। বিনিয়োগের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল লগ্নির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং কতজন স্থানীয় যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করেই ব্যবসায়িক ইনসেনটিভ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার।

তৃণমূল সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন না এলে শ্যাম স্টিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য রাজ্যে চলে যেত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এতদিন শিল্পপতিদের ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করা হলেও, নতুন শিল্পের এই আবহে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে। সরকারি হেলিকপ্টারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কারখানার পরিবেশ ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান শাসনে বাংলা থেকে গুন্ডা ট্যাক্স চিরতরে বিলুপ্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পায়নের নামে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি হারানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে আলোচনা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ভিত্তিতে। এছাড়া শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ব্যাটারি প্ল্যান্টসহ একাধিক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্গাপূজার আগে হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্ট বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে এবং দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার প্রকল্পে গৌতম আদানি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%