তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে ভাঙনের আতঙ্ক জল্পনায় ব্রাত্য বসুসহ একাধিক নেতা

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে চরম অস্থিরতা ও ভাঙনের গুঞ্জন ক্রমেই দানা বাঁধছে। দলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু। জল্পনা ছড়িয়েছে, দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় থাকা ব্রাত্য বসু এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে ব্রাত্য বসুর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের দাবি, নির্বাচনের পর থেকেই ব্রাত্য বসুকে প্রকাশ্যে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে কালীঘাটের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতেও তাঁর অনুপস্থিতি জল্পনার পারদকে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শুরু হওয়া এই ধোঁয়াশা আপাতত রাজনৈতিক মহলের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে গত জুন মাসের শুরু থেকে তৃণমূলে একের পর এক বড় ধাক্কা লেগেছে। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো রাজ্যসভার সাংসদরা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন কোয়েল। এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা ইডি, সিবিআই বা অন্য কোনো চাপে দল ছাড়তে আগ্রহী, তারা যেন একুশে জুলাইয়ের আগেই দলত্যাগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, কেউ দল ছেড়ে চলে গেলে তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বিন্দুমাত্র দুর্বল হবে না।
নেত্রীর এই কঠোর মন্তব্যের পর ব্রাত্য বসুকে ঘিরে চলা জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র ব্রাত্য বসুই নন, রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং জঙ্গলমহলের মানবাজারের প্রভাবশালী নেত্রী সন্ধ্যারানি টুডুও নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসবই আপাতত গুঞ্জনের স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে দলের অনেক নেতাই বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছেন। আগামী দিনে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসে আরও বড় ভাঙনের পূর্বাভাসও দিয়েছেন তিনি। এখন সকলের নজর, ব্রাত্য বসুসহ সম্ভাব্য দলত্যাগী নেতারা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, নাকি সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই থেকে যান।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস