সাবেক ছাত্র জমিয়ত নেতা নাঈমের মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ ও মুক্তির দাবি

ফ্যাসিবাদ আমলে দায়ের করা সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাবেক ছাত্র জমিয়ত নেতা হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট। গত রোববার দুপুরে ঐতিহাসিক এই চত্বরে সাংস্কৃতিক সংগঠন রেনেসাঁর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। একই স্থানে পৃথক কর্মসূচি পালন করে সিলেট মহানগর জালালাবাদ ইমাম সমিতি।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদ। কোনো ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই ন্যায়বিচারের তোয়াক্কা না করে এই রায় প্রদান করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বক্তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত রায় বাতিল করে দীর্ঘদিন কারাভোগ করা নাঈম আহমদকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের জোর দাবি জানান।

রেনেসাঁর ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মাওলানা মাহফুজ বিন আব্দুল হাফিজ। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পৃথকভাবে আয়োজিত জালালাবাদ ইমাম সমিতির মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা মুফতি রশিদ আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওলীউর রহমান। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এতে মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা আব্দুস সুবহান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতি সাঈদ আহমদ ও সৈয়দ সালিম কাসেমীসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের পর থেকে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

0%
0%
0%
0%