গিল থেকে যোজন দূরে থাকা কুনওয়ারজিতের রূপকথা মার্কিন মুলুকে পেল কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা

পাঞ্জাবের নেটে শৈশবের বন্ধু শুভমান গিলের সাথে কঠোর পরিশ্রমের স্মৃতি আর দীর্ঘ বছরের ব্যর্থতার গ্লানি পেছনে ফেলে অবশেষে সাফল্যের আলোয় কুঁয়ারজিৎ সিং। এমআই নিউইয়র্কের হয়ে মেজর লিগ ক্রিকেটের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ব্যাট হাতে তার সেই ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি যেন দীর্ঘ দুই দশকের পরিশ্রমের সার্থক জবাব। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই তরুণের উত্থান কেবল একটি ক্রিকেটের গল্প নয়, বরং জেদ এবং টিকে থাকার এক অদম্য আখ্যান।

বিজ্ঞাপন

শৈশবে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া কুঁয়ারজিৎ নয় বছর বয়সে পাঞ্জাবে ফিরে এসে শুভমান গিলের সাথে একই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে নেটে ব্যাট হাতে ঘাম ঝরানো আর হাজার বল মোকাবিলা করা ছিল তাদের রুটিন। কিন্তু গিলের ক্যারিয়ার যখন দ্রুত গতিতে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাল, কুঁয়ারজিতের জন্য ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের দুয়ার তখন বারবার বন্ধ হয়েছে। পাঞ্জাবের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা না পাওয়া সেই তরুণ অগত্যা পড়াশোনা ছেড়ে ক্রিকেটের পেছনেই নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেন। কোচ খুশপ্রীত আউলুকের সান্নিধ্যে নিজেকে গড়ে তোলার সেই লড়াইয়ে তিনি বারবার বাধা পেয়েছেন, তবুও পিছু হটেননি।

অবশেষে নেহাল ওয়াধেরার চোটে পাঞ্জাবের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা পাওয়ার সেই মুহূর্তটি কুঁয়ারজিতের কাছে ছিল জীবনের অন্যতম মাইলফলক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বিসিসিআই-এর নতুন নিয়মে তার সেই স্বপ্নের পথ রুদ্ধ হয়। ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে সাবেক পাঞ্জাবি ব্যাটার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচক সানি সোহালের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের জন্মভূমিতে ভাগ্য বদলের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ কিছু ইনিংস খেলে এমআই নিউইয়র্কের নজর কাড়েন এই প্রতিভাবান ব্যাটার।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এমআই নিউইয়র্ক যখন মাত্র ১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন ত্রাতা হয়ে মাঠে নামেন কুঁয়ারজিৎ। দলের চরম বিপর্যয়ে ১৩ বলে অপরাজিত ২২ রানের এক ধ্রুপদী ইনিংস খেলে তিনি দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। কোচ মার্ক বাউচার তার এই ইতিবাচক মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দলের জয়ের নেপথ্যে কুঁয়ারজিতের লড়াইকে স্বীকৃতি দেন।

বিজ্ঞাপন

বছরের পর বছর ধরে পরিবারের আর্থিক ত্যাগ এবং বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে কুঁয়ারজিতের এই জয় এখন আর ব্যক্তিগত অর্জন নয়। টুর্নামেন্ট শেষে বাড়ি ফেরার পর মায়ের গলায় সেই পদক পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি যেন দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। ক্রিকেট তার কাছে এতদিন যে ঋণ ছিল, সেই দায় শোধ করেই যেন অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন কুঁয়ারজিৎ।

0%
0%
0%
0%