তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত জনজীবন বছরে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন শহরবাসী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রাতের তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে ওঠায় জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন ভারতের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা। ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’ নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত গরমের কারণে ভারতজুড়ে মানুষের রাতের ঘুম হারানোর হার উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তালিকায় ভারতের শহরগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে চেন্নাই, যেখানে বাসিন্দারা গড়ে ৯৩ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন, আর ৮৪ ঘণ্টা ঘুম হারিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মুম্বাই।

বিজ্ঞাপন

সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার বাসিন্দারা বছরে গড়ে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন, যা ভারতের শহরগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এই সময়সীমার মধ্যে অন্তত ৫ ঘণ্টা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যে পরিমাণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, তার প্রায় ৭ শতাংশ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহরগুলোতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আসানসোলের বাসিন্দারা প্রতি বছর গড়ে ৭৪ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন, যার মধ্যে ৮ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। দুর্গাপুরে এই হার গড়ে ৭৬ ঘণ্টা, অর্থাৎ ৮ শতাংশ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে। শিল্পনগরী হাওড়াতেও পরিস্থিতির ভিন্নতা নেই; সেখানে বছরে গড়ে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন বাসিন্দারা, যার মধ্যে ৭ শতাংশ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের দায়।

তবে ঘুমের ক্ষতির শতাংশের বিচারে পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলোর মধ্যে শিলিগুড়িকে সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাহাড়ি জনপদ শিলিগুড়ির বাসিন্দারা প্রতি বছর গড়ে ৬৫ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন, যার মধ্যে ১০ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘটছে। অথচ ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের দিকে এই হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহ, অসহনীয় আর্দ্রতা এবং রাতেও তাপমাত্রা না কমার প্রবণতা সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বড় শহরগুলোর জনজীবনকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%