বিশ্বজুড়ে জ্বালানি স্থিতিশীলতার আহ্বান জানালেন সৌদি ও রুশ জ্বালানিমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকের সঙ্গে বৈঠকে প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান মন্তব্য করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বের প্রতিটি অণু জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং অনিশ্চয়তার দোলাচলে বিশ্ববাজার এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা সম্পর্কে আগাম ধারণা করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, চলতি বছরের শুরু থেকেই রাশিয়ায় জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তেল উৎপাদন হ্রাসের এমন স্পষ্ট স্বীকারোক্তি এই প্রথম। যদিও নোভাক একে রিফাইনারির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ধারাবাহিক হামলা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, হরমোজ প্রণালীতে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি বিঘ্নিত হচ্ছে। ওপেকের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত গত এপ্রিলে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফলে তেল উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ওপেকের বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা কার্যত তাত্ত্বিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ওপেক প্লাস জ্বালানি খাতের পরিবর্তনগুলো মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী। রয়টার্সের তথ্য মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরব ও রাশিয়া এবং জোটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো আগামী জুলাই মাসে তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে নতুন ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে। চলমান সংকটের সমাধানে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%