পুর নিয়োগ দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বা ইডির ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে রাজনৈতিকভাবে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের তলব এবং রাজনৈতিক মহলে তাঁর গোপন বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুরনিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে তাঁদের নাম জড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে ভবানীপুর ও দক্ষিণেশ্বরসহ বিধায়কের বিভিন্ন বাসভবনে অভিযান চালিয়ে ইডি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছিল, যার সূত্র ধরেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই আইনি জটিলতার আবহে গত মঙ্গলবার রাতে এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের দীর্ঘ উপস্থিতি রাজনৈতিক জল্পনার পারদ চড়িয়েছে। রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেখানে দুই নেতার একান্ত আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন? উল্লেখ্য, স্বর্ণকমল সাহা এবং তাঁর ছেলে তথা বর্তমান বিধায়ক সন্দীপন সাহা উভয়েই বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস ও অনুব্রত মণ্ডলের মতো একাধিক বর্ষীয়ান নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ভিড়েছেন। এতদিন মদন মিত্রকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এবং দলের অন্যতম বিশ্বস্ত বিধায়ক হিসেবে গণ্য করা হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক সেই আস্থার জায়গায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়বস্তু কিংবা মদন মিত্রের দলবদল নিয়ে উভয় পক্ষই এখন পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছে। একদিকে ইডির তদন্তের জালে পরিবার, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমীকরণের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে মদন মিত্রের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল ও জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%