নাগরিকত্ব নির্ধারণে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অসমে ২৭ জন ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক রায় প্রদান করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা অবশ্যই স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। এই পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে গুয়াহাটি হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করে মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নাগরিকত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়। তাই প্রতিটি মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। যদিও অবৈধভাবে ভারতের নাগরিকত্ব দাবি রোধ করা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৈধ দায়িত্ব, তবুও সেই স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক সুরক্ষাকে অবজ্ঞা করা যাবে না। নতুন করে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না বলেও শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে সবিত্রী দে, আজবাহার আলি, মহম্মদ আকবর আলি, আবেদা খাতুন এবং আনোয়ারা খাতুনসহ অন্যান্যরা দাবি করেছিলেন যে, সরকারি নথিপত্র বা ভোটার তালিকায় নামের বানানে সামান্য ভুল ও ছোটখাটো তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণেই তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, কেবল নামের বানান বা বয়সের সামান্য পার্থক্যের মতো ছোটখাটো ত্রুটির ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক।
শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই রায়ের মাধ্যমে আবেদনকারীদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের নাগরিকত্বের দাবির সত্যতা ও প্রামাণ্য দলিলসমূহ নতুন করে স্বাধীনভাবে বিচার করবে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনাল। নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয় কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে আদালত। মামলার পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া আইনসম্মত ও স্বচ্ছ রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস