ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট প্রচার: মেটাকে কড়া নোটিস কেন্দ্রীয় সরকারের

ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর ও বেআইনি কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা-কে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক অবিলম্বে এ ধরনের সমস্ত বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মটি থেকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিবিসি-র একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে প্ল্যাটফর্মটিতে এমন কিছু বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যায়। এসব চ্যানেলে ৯৯ টাকা মূল্যে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। তদন্তে প্রায় ৩০টি বিজ্ঞাপন এবং ২০টি পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যা ফেসবুকের স্বত্বাধিকারী সংস্থা মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটিকেই সামনে এনেছে।
শুধুমাত্র নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ভারত সরকার। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটা-র কাছে এ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছে। এসব আপত্তিকর বিজ্ঞাপন কীভাবে তাদের নজর এড়িয়ে লাইভ হলো, অভিযোগ ওঠার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রুখতে সংস্থাটি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—তার বিস্তারিত বিবরণ আগামী ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মন্ত্রক এ বিষয়ে মেটা কর্মকর্তাদের সরাসরি তলবও করেছিল।
বিবিসি-র ওই তদন্তের অংশ হিসেবে ভারতে একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেখা যায় যে, রেকমেন্ডেশন সিস্টেমের মাধ্যমে খুব সহজেই ওই অ্যাকাউন্টে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর মেটা দাবি করেছে, তারা এরই মধ্যে বিতর্কিত বিজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো সরিয়ে নিয়েছে। মেটার দাবি অনুযায়ী, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্ট শনাক্ত করছে, তবে অপরাধীরা নিয়মিত তাদের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মেটা-র পক্ষ থেকে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের কথা বলা হলেও, কেন তাদের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এমন গুরুতর অপরাধমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার এখন মেটা-র আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে কোনো আপস না করার বার্তা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
