AdvertisementAdvertisement

৩২ লাখ টাকার চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বেঙ্গালুরুতেই রয়ে গেলেন আইআইটি রুরকির স্নেহা প্রিয়া

আর্থিক চাকচিক্য আর ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড়ে পিছু না হেঁটে মানসিক প্রশান্তি ও জীবনযাত্রার মানকে অগ্রাধিকার দিলেন ২৫ বছর বয়সী আইআইটি রুরকির মেধাবী ছাত্রী স্নেহা প্রিয়া। বার্ষিক ৩২ লক্ষ টাকার লোভনীয় প্যাকেজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি নিজের প্রিয় শহর বেঙ্গালুরুতেই থেকে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত কর্মক্ষেত্রের অস্থিরতা এবং অপরিচিত পরিবেশের অনিশ্চয়তা এড়াতেই কর্পোরেট বিশ্বের তথাকথিত ‘ড্রিম জব’ প্রত্যাখ্যান করেছেন এই তরুণী।

২০২৩ সালে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করা স্নেহা গত তিন বছর ধরে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একটি বহুজাতিক সংস্থা থেকে তিনি ডেটা সায়েন্টিস্ট পদের জন্য বিশাল অঙ্কের বেতনের অফার পান। সেই প্যাকেজের সাথে ছিল জয়েনিং ও রিলোকেশন বোনাসের বাড়তি সুবিধা। তবে এই চাকরির প্রধান শর্ত ছিল গুরুগ্রামে স্থানাস্তর হওয়া, যা মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি স্নেহা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চাকরি ত্যাগের নেপথ্যে স্নেহা প্রধানত তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, বেঙ্গালুরুতে তাঁর দাদা-বৌদি ও দীর্ঘদিনের বন্ধুদের নিয়ে যে শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে উঠেছে, তাকে তিনি অর্থের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেন। দ্বিতীয়ত, দিল্লি ও গুরুগ্রাম অঞ্চলে নারী নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তাঁর অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাঁকে পুনরায় সেই অঞ্চলে পা রাখতে নিরুৎসাহিত করেছে। সবশেষে, বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া, সংস্কৃতি এবং এখানকার বাসিন্দাদের অমায়িক আচরণ তাঁকে এই শহরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত করে তুলেছে।

গত ৩০ জুন স্নেহার গুরুগ্রামের অফিসে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ওইদিন সকালে বেঙ্গালুরুর আকাশে ভেসে ওঠা একটি ‘টুইন’ বা জোড়া রামধনু তাঁকে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আরও দৃঢ় ও আশ্বস্ত করেছে। তিনি এখন বেঙ্গালুরুরই তুলনামূলক কম পরিচিত একটি সংস্থায় কাজ করছেন, যেখানে আয়ের চেয়ে মানসিক স্বস্তি ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ বেশি। স্নেহার এই সিদ্ধান্ত আধুনিক কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষার এক নতুন নজির স্থাপন করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%