তৃণমূলের দলীয় তহবিলের হিসাব তলব কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিত থাকছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত লেনদেন

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দখল নিয়ে চলমান আইনি জটিলতায় নতুন মোড় নিয়েছে। দলটির বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত রাখা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামী মঙ্গলবার নাগাদ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলোকে দলীয় তহবিলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি ও সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্বলিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং ততদিন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বিতর্কিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ বা স্থগিতই থাকবে বলে আদালত স্পষ্ট করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার দলীয় তহবিল নিয়ে বর্তমানে তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের চিঠির প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের ১০ জন বিধায়ক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তহবিলের উৎস ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এহেন পরিস্থিতিতে কালীঘাট শিবির অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তদন্তের পরিধি ও পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, অভিযোগ যদি নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে হয়, তবে সব অ্যাকাউন্ট অচল না করে কি তদন্ত চালানো সম্ভব? এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো বিশেষ কর্মকর্তা বা যুগ্ম আধিকারিক নিয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়েও আদালত চিন্তাভাবনা করছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করা হয়নি।

মামলায় তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্টের কথা বলা হলেও বর্তমানে আটটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের এ ধরনের হস্তক্ষেপ আইনত কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে অ্যাকাউন্টগুলো সচল করার আবেদন জানান। অন্যদিকে, পুলিশের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেন যে, দলের নেতৃত্ব নিয়ে যখন দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে, তখন তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত রাখা অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। বুধবারের পরবর্তী শুনানিতে দাখিলকৃত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই দলীয় তহবিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%