AdvertisementAdvertisement

পাঁচ হাজার কোটি টাকার ডিটারজেন্ট বাজারে দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির নীরব বিপ্লব

অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি আজ প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলাদেশে এক বিশাল বাণিজ্যিক বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। নিত্যব্যবহার্য পণ্য হিসেবে ডিটারজেন্ট পাউডারের বাজার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। করপোরেট খাতের এই সফল উদ্ভাবন এখন প্রান্তিক জনপদ থেকে শুরু করে অভিজাত শ্রেণির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী লন্ড্রি সাবানের জায়গা দখল করে নিচ্ছে উন্নতমানের ডিটারজেন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডিটারজেন্ট সরবরাহের পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টনে পৌঁছেছে। ২০২৯ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ৭৭ হাজার ৩৮২ টন ডিটারজেন্টের বাজার ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকার, যার বার্ষিক বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ শতাংশ। বর্তমানে সামগ্রিক বাজারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট ডিটারজেন্ট চাহিদার ৬৫ শতাংশ আসে গ্রাম থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ শহর থেকে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার বাজারের বড় অংশ দখল করে থাকলেও কোহিনুর কেমিক্যাল, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, কল্লোল গ্রুপ ও আরএসপিএলের মতো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এই খাত এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। ইউনিলিভারের হুইল, রিন ও সার্ফ এক্সেল ব্র্যান্ডগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও দেশীয় ব্র্যান্ড ‘জেট’ আধুনিক মাল্টি-এনজাইম ফর্মুলা ও জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহারে নিজস্ব অবস্থান সুসংহত করেছে। মূলত, ইউনিলিভার, কল্লোল গ্রুপ ও স্কয়ারসহ শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানি দেশের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ পূরণ করছে।

এই খাতের কাঁচামাল যেমন ল্যাবসা, সোডা ও অ্যাশ মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব এড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কোম্পানিগুলো দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে লিকুইড বা তরল ডিটারজেন্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে। ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে লন্ড্রি সাবানের ব্যবহার কমে আগামী পাঁচ বছরে এই খাতের বাজার ছয় হাজার কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশীয় কোম্পানিগুলো এখন শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ী প্যাকেজিংয়ের দিকেও জোর দিচ্ছে। আধুনিক কেমিক্যাল ফর্মুলেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে। আইএসও সনদপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠানের সুস্থ প্রতিযোগিতা ও ক্রমাগত মানোন্নয়ন দেশের ডিটারজেন্ট শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা প্রকারান্তরে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকেও বেগবান করছে।

0%
0%
0%
0%