রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সূত্র ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে দলের বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একসময় তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্নীতি ও সাংগঠনিক অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন মনোরঞ্জন। তাঁর এই স্পষ্টবাদী আচরণের জেরে দলের সঙ্গে দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এক প্রকাশ্য জনসভায় ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি ঘাসফুল শিবির।

সম্প্রতি হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, তাঁকে কেবল একজন সেলিব্রিটি হিসেবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই নিজের ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মনোরঞ্জন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে তিনি প্রচার করেননি, যার জন্য তিনি এখন স্বস্তি বোধ করছেন। তাঁর মতে, দলের নির্দেশে প্রচার থেকে দূরে থাকায় তিনি আজ বড় ধরণের মনোকষ্ট থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে মনোরঞ্জন ব্যাপারী লিখেছেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই। উল্টো, তাঁকে সঠিক সময়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, যদি তিনি রচনার প্রচারের পেছনে পরিশ্রম করতেন, তবে আজ সেই পরিশ্রম বৃথা যাওয়ার গ্লানি তাঁকে কুড়ে কুড়ে খেত।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, রিকশাচালক থেকে সাহিত্যিক হয়ে ওঠা মনোরঞ্জন ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বলাগড় কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে দলের মূল স্রোত থেকে তাঁর বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াটি এই নতুন বিতর্কের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। তাঁর এই বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান বিশৃঙ্খলাকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%