AdvertisementAdvertisement

শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর-ই-তইবা সংশ্লিষ্ট নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতারের বড় ভাই শাহিদ আখতারের জানাজায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শাহিদ আখতারের মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যেখানে কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর মদতপুষ্ট পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের একাধিক নেতাকে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। এই ঘটনা পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অবাধ বিচরণ এবং রাষ্ট্রীয় মদত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের ইসলামাবাদ শাখার প্রধান ইনাম-উর-রহমান কাম্বোহ, ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ তুর এবং জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ মূলত লস্কর-ই-তইবার একটি রাজনৈতিক প্রক্সি সংগঠন। বিশেষ করে ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এমন প্রকাশ্যে উপস্থিতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জঙ্গিবাদ দমনে দেশটির সদিচ্ছা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরেই ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। নয়াদিল্লির দাবি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দাবি করলেও বাস্তবে ইসলামাবাদ নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক পুনর্বাসনে সহায়তা করছে। মুম্বাই হামলার ন্যায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর ভারত একাধিকবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু শাহিদ আখতারের জানাজায় জঙ্গি নেতাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব সংগঠনের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে শোয়েব আখতার বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জানাজায় জঙ্গি নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্লেষকদের অভিমত, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দেশটির চরমপন্থী দমনের ব্যর্থতাকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট করে তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%