AdvertisementAdvertisement

বাংলায় ঝোড়ো বৃষ্টির স্বস্তি বিপরীতে তীব্র দাবদাহে ফ্রান্সে প্রাণ হারালেন ১৮ জন

কলকাতার আকাশজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে চলছে মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি। ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি থাকলেও বৃষ্টির ছোঁয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে জনজীবনে। মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া ও পুরুলিয়া জেলায় ঝেঁপে নামা বৃষ্টির সঙ্গে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়ায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার প্রকোপে কলকাতার ধর্মতলা ও হাই কোর্ট চত্বরে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ডাফরিন রোডে ভেঙে পড়েছে একটি অস্থায়ী মূর্তিও। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলার এই ঝোড়ো আবহাওয়ার ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে। প্রচণ্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত পুরো দেশটিতে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়াবহ এই গরমে ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশু রয়েছে, যাদের দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ইউরোপে সাধারণত ঘরবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা সিলিং ফ্যানের প্রচলন কম থাকায় এই অসহনীয় তাপমাত্রা মোকাবিলা করা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান ওয়াইন উৎপাদনকারী অঞ্চল বর্দোতে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, সেখানে গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে আশি ও পঁচানব্বই বছর বয়সী বৃদ্ধসহ অন্তত তিনজন মারা গেছেন। এছাড়া পাতিয়েজ এলাকায় তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে ১৯৪৭ সালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ার এই প্রবণতা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

এএফপির তথ্যমতে, স্পেনের স্যান সিবেস্টিয়ানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্রিটেনের আবহাওয়া পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিক বর্ণমালার আদলে ‘ওমেগা ব্লক’ নামক একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনার কারণেই ইউরোপের এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মে মাসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী তাপপ্রবাহের রেশ কাটতে না কাটতেই মহাদেশটি ফের নতুন করে তীব্র উষ্ণতার কবলে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কায় জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%