তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির মামলায় স্বরূপ বিশ্বাসের পুলিশ হেফাজত নির্দেশ আদালতের

ভারতের টলিউড পাড়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনি টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হওয়ার পর, এবার রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের করা একটি পৃথক তোলাবাজি মামলায় তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ বা নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে এই মামলার শুনানিকালে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতে অভিযোগকারীর আইনজীবী দাবি করেন, কোভিড অতিমারির দুঃসময়ে বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের হিসাব অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৭৫ লক্ষ টাকার কোনো স্বচ্ছ নথিপত্র বা হিসাব পাওয়া যায়নি। ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক এই অর্থ আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যাপক ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি এবং এর সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও দাখিল করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানির এক পর্যায়ে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, স্বরূপ বিশ্বাস এমন একটি বিশেষ চশমা ব্যবহার করতেন, যাতে গোপন ক্যামেরা বসানো থাকত। এছাড়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, তাঁর এই প্রভাবের কারণে টলিপাড়ার অনেক মানুষই ভয়ে এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি।
মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত স্বরূপ বিশ্বাসকে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তোলাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্যে থাকা তথ্যপ্রমাণ যাচাই করতে এই সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে টলিউডসহ রাজ্যটির রাজনৈতিক অঙ্গন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস