AdvertisementAdvertisement

ইউক্রেনের তীব্র বিমান হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়া রণক্ষেত্রে রেকর্ড প্রাণহানির মুখে

ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ৪২ হাজার ৮০০ জন সৈন্য হারিয়েছে, যা কিয়েভের হিসাব মতে এ বছরের সর্বোচ্চ। আল জাজিরা স্বাধীনভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে সক্ষম হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনের ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণেই রাশিয়ার এই বিপর্যয় ত্বরান্বিত হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস সেন্টারের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন হতাহতের অনুপাত প্রায় ৮:১ এ পৌঁছেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট সামাল দিতে রাশিয়া এখন গ্লাইড বোমা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জুলাই মাসে রাশিয়া ৮ হাজার ৩০০টি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করেছে, যা যুদ্ধের ইতিহাসে যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার ৪০ দিনের বিমান হামলা কর্মসূচি সফল ঘোষণা করেছেন এবং গত ৪ আগস্ট এটি নতুন করে সম্প্রসারিত করেছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে ১৪টি শোধনাগার, ডজনখানেক তেল ডিপো এবং একাধিক বিমানঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার মোট তেল শোধনাগারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশেষ করে অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ২০০টিরও বেশি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র অকেজো করে দেওয়ায় উপদ্বীপটিতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে অঞ্চলটিতে এখন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইউক্রেন কৃষ্ণ সাগর এবং আজভ সাগরে রাশিয়ার ২০৬টি ট্যাঙ্কার ও ফেরি অকেজো করে দিয়েছে, যা মস্কোর রসদ সরবরাহের পথকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলের গতিও নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া জুলাই মাসে মাত্র ৩৭.৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল অনেক বেশি। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন অনুপ্রবেশ প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যদিও কস্তিয়ানতিভকার মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে রুশ চাপের কারণে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্কতা দিয়েছেন যে, রাশিয়া অক্টোবর নাগাদ ৫ লাখ রিজার্ভ সৈন্য তলব করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে। জুলাই মাসে রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক ৩৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ১২০টিই ছিল ব্যালিস্টিক প্রকৃতির। ইউক্রেনের কাছে থাকা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মানব জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুদামে জমিয়ে না রেখে দ্রুত রণক্ষেত্রে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%