হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে ইরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি খসড়া বিল নিয়ে তেহরানে জোর আলোচনা চলছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টারি কমিটি এমন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর নৌযান চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করতে পারে। এই জলপথকে কেন্দ্র করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ সমাপ্তির পথে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংঘাত নিরসনের সাথে সাথে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘থিয়েটার ডিপ্লোমেসি’ বা নাটকীয় কূটনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, ভয় দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের এই কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
এদিকে, তেহরানের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করে ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল ওমানের সাথেই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলাপ করছে। বৃহস্পতিবার ইরান ও ওমান প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন সমন্বয়কারী পথ ও স্থানাঙ্ক নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। রয়টার্সের তথ্য মতে, চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রণালীটি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৫০। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে ওমানের মধ্যস্থতা বর্তমানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমঝোতা হলেও ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক যুদ্ধবিরতির পথ এখনো দীর্ঘ। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল স্টিফেনস সতর্ক করে বলেছেন, মিসাইল ও ইন্টারসেপ্টারের স্বল্পতা মার্কিন বাহিনীর জন্য অঞ্চলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সির মতে, বারবার হামলার হুমকি দেওয়া এবং পরে তা প্রত্যাহার করার মতো ট্রাম্পের অসংলগ্ন আচরণ আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইস্যুটি দুই পক্ষের জন্যই একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান নিজস্ব জলসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ও ভবিষ্যতে মাশুল আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ওয়াশিংটন এর ঘোর বিরোধী। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড ডেস রোচসের মতে, বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে শেষ পর্যন্ত হয়তো ইরানকে প্রণালীর একাংশের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমেই একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
