মাওবাদী নেতা আকাশকে ধরতে বাংলা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু

ঝাড়খণ্ডে তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রীর গ্রেপ্তারের পর এবার মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-কে পাকড়াও করতে কোমর বেঁধে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, মাওবাদী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মনোবল বর্তমানে অনেকটাই তলানিতে ঠেকেছে, আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ‘মিশন আকাশ’ নাম দিয়ে দুই রাজ্যের পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় এই যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি এবং পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ কুঁচিয়া ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তাঁরা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে গিয়ে বাহিনীর সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে হানা দিতেই এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
এর আগে বুধবার ভোররাতে ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলার কাণ্ডরা ও নিমডি থানা এলাকা থেকে মদন মাহাতো, সাগর সিং এবং তার স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে চান্ডিল থানার আসনবনি গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে একটি ইনসাস রাইফেল, ম্যাগাজিন এবং ২০৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ঝাড়খণ্ডের পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ারি জানিয়েছেন, জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা বাকি মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, সারাণ্ডা জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ার পর অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের নেতৃত্বাধীন স্কোয়াডটি দলমা পাহাড় এলাকায় আস্তানা গেড়েছিল। সেখান থেকে কাঁকরাঝোর পর্যন্ত বিস্তৃত বনাঞ্চলে তারা ঘন ঘন ডেরা বদল করে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। মদন মাহাতো ও সাগর সিংয়ের দল বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল বলে পুলিশের ধারণা। ধৃতদের গ্রেপ্তারের পর আকাশের স্কোয়াডে এখন মাত্র ছয়জন সদস্য অবশিষ্ট রয়েছে, যা মাওবাদী সংগঠনের জন্য এক বড় ধাক্কা।
সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের প্রতিটি ছোট-বড় রাস্তা, চেকপোস্ট এবং জঙ্গলপথে কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের ব্যাগ তল্লাশির পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলোতে অচেনা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ সোর্স নেটওয়ার্ক, যাতে অসীম মণ্ডলের প্রতিটি গতিবিধি নজরে রাখা যায়।
যদিও আকাশের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কোনো অকাট্য তথ্য হাতে আসেনি, তবুও পুলিশের বিশ্বাস, খুব কম সংখ্যক সহযোগী নিয়ে তার পক্ষে আত্মগোপন করে থাকা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব হবে না। সংগঠন টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলেই সে নিরাপত্তা বাহিনীর জালে ধরা পড়বে বলে আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন। দুই রাজ্যের পুলিশের এই সমন্বিত প্রয়াস খুব শীঘ্রই সফল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
