সুন্দরবনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা ও জেলেদের খাদ্য সহায়তা চালু

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী টানা তিন মাস নদী-খাল ও বনসংলগ্ন জলাশয়ে মাছসহ সব ধরনের জলজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়লেও, এবারই প্রথমবারের মতো তাদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বননির্ভর মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন স্বস্তি নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা এলাকার মোট ৮ হাজার ২৭১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ৬ হাজার ৬৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বননির্ভর জেলেদের জন্য এমন খাদ্য সহায়তার নজির ছিল না, তবে ভবিষ্যতেও জেলেদের কল্যাণে সরকারের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপকারভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হতো, কিন্তু বর্তমানের এই সরকারি সহায়তা তাদের সংকট নিরসনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। তবে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
মোংলার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বছরে চার দফায় পর্যায়ক্রমে চাল প্রদান করা হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য সহায়তার ফলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।
বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ রোধে নেওয়া হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থা। মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এই উদ্যোগ বননির্ভর মানুষের টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
