ইথিওপিয়ায় নতুন মেরুকরণে উত্তপ্ত উত্তর অঞ্চল পুরনো মিত্রদের বিরুদ্ধে সরকার

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জোটের সমীকরণে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা দেশটিকে আবারও এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের মিত্র হিসেবে লড়াই করা টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ), ফানো মিলিশিয়া এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার মধ্যেকার সম্পর্ক এখন চরম বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই পক্ষগুলো একে অপরের সাথে গোপন আঁতাত গড়ে তুলেছে, যা দেশটির অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ডেব্রেসিয়ন গেব্রেমিখেলের নেতৃত্বাধীন টাইগ্রে ডিফেন্স ফোর্সেস (টিডিএফ) মেকেলের আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এবং মেয়রের কার্যালয়সহ ইরিত্রিয়া সীমান্তবর্তী আডিগ্রাত শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। শান্তি চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি বাহিনীকে ইথিওপিয়ার মাটি থেকে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, ইরোব এবং শিরাগো জেলার কিছু অংশ এখনও ইরিত্রিয়ার সেনাদের দখলে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে, টিপিএলএফ এবং ইরিত্রিয়া যৌথভাবে ফানো মিলিশিয়াদের অর্থায়ন ও সামরিক সহায়তা দিয়ে নর্থ ওলো এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে আমহারা অঞ্চলের ওয়েলদিয়া শহর দখলের প্রচেষ্টাতেও টিপিএলএফ সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছে ফেডারেল সরকার। তবে ডেব্রেসিয়ন এসব অভিযোগকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
একসময়ের মিত্র ফানো মিলিশিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারের মধ্যকার সম্পর্ক এখন চূড়ান্ত ভাঙ্গনের মুখে। আমহারা জাতীয়তাবাদী এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি বর্তমানে আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। একদিকে ফানো মিলিশিয়াদের সশস্ত্র তৎপরতা, অন্যদিকে টাইগ্রে অঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, এই সংঘাতের শিকড় সুদূরপ্রসারী এবং এর পেছনে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। সুদান সংকটকে কেন্দ্র করে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যকার বিপরীতমুখী অবস্থান এবং নীল নদের পানি বণ্টন নিয়ে মিসরের সাথে আদ্দিস আব্বাবার মতপার্থক্য পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। চলতি সপ্তাহে পশ্চিম টাইগ্রেতে নতুন করে রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরুর মধ্য দিয়ে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা আবারও ফিকে হয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
