AdvertisementAdvertisement

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইতালি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত পুরো ইউরোপ। গত কয়েক দিনে স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মহাদেশটির পরিবহন ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। জনজীবন রক্ষায় ইতালি তাদের ২৭টি প্রধান শহরে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে।

স্লোভাক হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্লোভাকিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম দোলনে প্লাখতিনসিতে তাপমাত্রা ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়েছে। তীব্র গরমে ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তার সক্ষমতার মাত্র ৮০ শতাংশ উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিবেশী হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টেও বুধবার রাতে রেকর্ড ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। দানিউবের পানি কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশটির মোট চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অস্ট্রিয়াতেও দাবদাহের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্লোভাকিয়া সীমান্তের কাছে বাদ ডয়েচ-আলতেনবুর্গ গ্রামে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইতালিতে চলতি বছর প্রথমবারের মতো ২৭টি বড় শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এই তাপদাহে কাজ করার সময় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১৯ বছর বয়সী এক টমেটো শ্রমিকসহ অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জার্মানিও চরম খরায় ভুগছে। দানিউবসহ অন্যান্য নদীতে পানির স্তর অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের বদলে সড়কপথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এতে পণ্য পরিবহন হ্রাস পাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ইউরোপে এই তীব্র দাবদাহ এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যা এখানকার বর্তমান অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মের এই தொடা তাপদাহে ইউরোপজুড়ে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%