AdvertisementAdvertisement

যুদ্ধবিরতির তিনশ দিনে গাজায় প্রাণ হারিয়েছে তিনশ শিশু

গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশুর প্রাণহানির হৃদয়বিদারক তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অর্থাৎ, গত দশ মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে একজন করে শিশু সংঘাতের বলি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় এই শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে এবং আরও শত শত শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার্দ বেইগবেদের এ পরিস্থিতিকে ‘ব্যর্থ যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গাজার শিশুরা যে শান্তির প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখনো অধরা।

গাজার বাসিন্দারা বর্তমানে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ, আবর্জনা আর পচনশীল বর্জ্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারগুলো। এর মধ্যে চরম অপুষ্টি, সংক্রামক রোগ, নিরাপদ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার ভেঙে পড়া শিশুদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে অনেক সময় অপরিণত নবজাতকদের একটি যন্ত্র ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার চরম দৈন্যদশা নির্দেশ করে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবমতে, এই যুদ্ধে ৫৮ হাজারেরও বেশি শিশু তাদের বাবা-মা অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। এছাড়া ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট হিসেবে চিহ্নিত। দশ লাখেরও বেশি শিশুর জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার প্রয়োজন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি প্রজন্মের শৈশব পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণকর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাজার শিশুরা খেলার মাঠের পরিবর্তে প্রতিদিন পানির সন্ধানে দীর্ঘ লাইন, খাবার সংগ্রহ এবং জ্বালানি কাঠ কুড়ানোর মতো কঠোর শ্রমে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত মে মাসে পরিচালিত ইউনিসেফের এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, স্কুলগামী শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেইগবেদের বলেন, গাজার শিশুদের জন্য প্রকৃত শান্তির পরীক্ষা হলো—সহিংসতা বন্ধ হওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতাল ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করা। যুদ্ধের ভয়াবহতা ছাপিয়ে শিশুরা যাতে স্বাভাবিক শৈশব ফিরে পায়, সেই লক্ষ্যে ইউনিসেফ চলতি সপ্তাহে ৬০০ প্যালেটের বেশি শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছে। তবে কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%