AdvertisementAdvertisement

ব্রাজিলে বিমান দুর্ঘটনায় ৬২ জনের প্রাণহানি: ভোয়েপাস এয়ারলাইনসের ১৬ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ব্রাজিলের সাও পাওলোর উপকণ্ঠে গত আগস্ট মাসে ৬২ জনের প্রাণহানি ঘটানো বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় ভোয়েপাস এয়ারলাইন্সের ১৬ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত শেষে উঠে এসেছে যে, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সংস্থাটির গাফিলতি, যান্ত্রিক ত্রুটি গোপন করা এবং পেশাগত দায়িত্বহীনতাই এই মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনার মূল কারণ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের বিমানটির ডি-আইসিং বা বরফ নিরোধক ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। তথ্য রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার আগের ১৩৬টি ফ্লাইটে সিস্টেমটি বারবার অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বা ম্যানুয়ালি বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনার দিনই অন্তত তিনটি ফ্লাইটে ত্রুটি ধরা পড়ার পরও বিমানটিকে উড্ডয়নের জন্য অনিয়মিতভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, যা আকাশপথের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ভোয়েপাস এয়ারলাইন্সের স্বত্বাধিকারী ও প্রেসিডেন্ট হোসে লুইজ ফেলিসিও ফিলহো। এ ছাড়া আরও ১৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আকাশপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের পথ প্রশস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কিছু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিমানের লগবুকে যান্ত্রিক ত্রুটির তথ্য গোপন করার বাড়তি অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পারানা অঙ্গরাজ্যের কাসকাভেল থেকে সাও পাওলোর গুয়ারুলহস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বিমানটি প্রায় ৩ হাজার ৯৬০ মিটার ওপর থেকে নিচে আছড়ে পড়ে। এতে ৫৮ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রুসহ মোট ৬২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার আঙিনায় বিধ্বস্ত হয়। ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, এই সংস্থাটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতাই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী থালেস আন্দ্রাদে জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি লড়াই চালানো হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আন্দ্রে রিবেইরো বিষয়টিকে ব্রাজিলের বিমান চলাচল ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ব্রাজিলের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (আনাকে) কর্মকাণ্ডও এখন তদন্তের আওতায় আসা উচিত। অভিযুক্ত ১৬ জনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%