কিশোরদের সুরক্ষায় মেটার বিরুদ্ধে ৪২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ আদালতের

নিউ মেক্সিকোর আদালতে মেটার বিরুদ্ধে চলা এক আইনি লড়াইয়ের রায়ে ৪২০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড। মূলত তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা এবং সুরক্ষায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। আগামী পাঁচ বছর মেয়াদে এই তহবিলের অবশিষ্ট অংশ জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্ক্রিনিং পরিষেবায় ব্যবহৃত হবে।
মামলার বাদীপক্ষের কৌঁসুলিরা মেটার বিভিন্ন সরঞ্জামে আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ, বয়স যাচাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া এবং শিশুদের যৌন হয়রানি রোধে ডিফল্ট গোপনীয়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। এই পরিবর্তনগুলো এবং নিউ মেক্সিকোতে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম রাজ্যের নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা শুনানিতে বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর এই রায় প্রদান করেন। জুরিবিহীন এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল বিষয় ছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী ‘জনগণের জন্য উৎপাত’ বা ‘পাবলিক নুইস্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা দীর্ঘ সময় ধরে কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বাস্তবতাকে আড়াল করে করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, পৌরসভা এবং স্কুল জেলাগুলো একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এই রায়টি দেশজুড়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের এই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানকে কাঠামোগত পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতার আওতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন মহল থেকে যে প্রচেষ্টা চলছে, এই রায় তাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
