AdvertisementAdvertisement

মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন এবং নিজ দেশের মাটিতে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর নয়াদিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা জানান, তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা থাকলেও সমর্থকদের থেকে দূরে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি দাবি করেন, ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার ১৫ বছরের শাসনকালের অবসান পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন। গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হাসিনার এই বক্তব্যের পরপরই ঢাকার রাজপথে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ; রাজধানীজুড়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। একইসঙ্গে বর্তমান তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার নয়াদিল্লির এই আয়োজনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একজন দণ্ডিত খুনিকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অবশ্য দাবি করেছেন, এই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতকেও তারা সমর্থন করে না।

এদিকে শেখ হাসিনার এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। মাগুরায় সাবেক ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাকিব নিজেও অনলাইনে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে তদন্ত চালাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে একে নিছক ‘ফাঁপা বুলি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির আইনপ্রণেতা আখতার হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ভুক্তভোগী ও জুলাই বিপ্লবে আহতদের মতে, বিচারের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া তার ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যান মনে করেন, এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। আওয়ামী লীগের মনোবল চাঙ্গা করা এবং বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, জনগণের রোষানল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাস্তবতায় এই কৌশল কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ এখন কেবল জবাবদিহি ও বিচারের পথেই অটল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%