গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭১.৪ বিলিয়ন ডলার, দুই দশকের মোট খরচের চেয়ে সাত গুণ বেশি

গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা এবং পরবর্তীতে তা পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অক্সফাম। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাটির তথ্যমতে, গত দুই দশকের সব সংঘাতের পর গাজা পুনর্গঠনের সম্মিলিত খরচের তুলনায় বর্তমানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সাত গুণ বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অন্তত ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লক্ষ ৭৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ, যা অঞ্চলটিকে মানবিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে ঠেকিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের সমন্বিত মূল্যায়নে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজাকে পুনরুদ্ধারের জন্য ৭১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গাজায় মানব উন্নয়নের সূচক অন্তত ৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে। প্যালেস্টাইন ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং প্যালেস্টাইন ট্রেড সেন্টারের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কেবল বাইরের কোনো দেশের অর্থায়নে বা পরিকল্পনাতেই গাজার পুনর্গঠন সম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং তাদের নেতৃত্ব অপরিহার্য বলে প্রতিবেদনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পুনর্গঠনের বিশালতা বোঝাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার মতো প্রায় ৪৮টি স্থাপনা তৈরি করা সম্ভব। এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো অঞ্চলটির ধসে পড়া অবকাঠামো মেরামত এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি স্থাপন করা। এর মধ্যে পুনর্গঠনের প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি পরিষেবা ও মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য ২৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন পড়বে। তবে সবকিছুর আগে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ৬৬ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ, যা অপসারণ করাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ হাজার থেকে ১১ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মরদেহগুলো সসম্মানে উদ্ধার ও শনাক্ত করা এবং একইসঙ্গে অবিস্ফোরিত বোমা, অ্যাজবেস্টস ও বিষাক্ত বর্জ্য থেকে এলাকাটি মুক্ত করা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। পরিবেশগত ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্যের ভয়াবহ হুমকি মোকাবিলায় আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা যেন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে খণ্ডিত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রসমূহ, মিশর এবং জাতিসংঘের সহযোগিতায় একটি চার ধাপের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো গাজার মানুষের হারানো জীবন ও অবকাঠামোর যথাযথ পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%