গাজার পুনর্গঠন ও ফিলিস্তিনি ঐক্যের ডাক দিয়ে হামাসের নতুন নেতৃত্বে খলিল আল-হাইয়া

হামাসের নতুন রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে খলিল আল-হাইয়া গাজা পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বুধবার হামাস পরিচালিত আল-আকসা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমকে নিয়ে একটি স্বাধীন ও গর্বিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হামাসের অভ্যন্তরীণ সাধারণ শুরা কাউন্সিলের ভোটাভুটিতে খালিদ মেশালকে পেছনে ফেলে আল-হাইয়া দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন।
ভাষণে আল-হাইয়া গাজাবাসীর প্রতি তার অটুট সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে উচ্ছেদের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজার পুনর্গঠন ফিলিস্তিনিদের অধিকার, যা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা ছাড়ের বিনিময়ে হতে পারে না। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি অঞ্চলটিতে শান্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন।
আল-হাইয়া জানান, গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীর নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই হামাসের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের মানদণ্ড রক্ষায় বিশ্বকে অবশ্যই গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বর্তমান সংঘাত নিরসনে মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হামাসের নতুন এই নেতা। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘন করছে। আল-হাইয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আসা অসম্ভব।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা