ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার দায়ে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানের বিচার বিভাগ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর প্রণীত কঠোর নিরাপত্তা আইনের আওতায় এসব বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিচার বিভাগের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম বুধবার মেহদি খানাখি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত করেছে। তাকে একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যাকে গত জানুয়ারি মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তার বাসা থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির একটি ‘বৈপ্লবিক আদালত’ তাকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য বৈরী গোষ্ঠীর পক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।

এর আগে রবিবার ইসফাহান শহরে বিক্ষোভের সময় তিন পুলিশ সদস্যকে হত্যার দায়ে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বিদেশি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী এই বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি সহায়তা ছাড়াই বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে এসব রায় দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভের সূচনা হলেও তা দ্রুতই দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এরপর থেকে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেক ব্যবসায়ী ও তারকা ব্যক্তিত্বের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকাকালে নিরাপত্তা বাহিনী যে বড় ধরনের দমন অভিযান চালিয়েছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই ছিল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘পবিত্র ঐক্যের’ ডাক দিয়েছেন। মার্চ মাসে তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণকারী মোজতবা দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের ভেতরে থাকা ছদ্মবেশী ও গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে ইরানি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, যদিও তেহরান শুরু থেকেই এমন দাবি নাকচ করে আসছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%