লেবানন ও ইসরায়েলের চিরস্থায়ী শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে আউনের আলোচনা

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান বৈরী সম্পর্কের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানোই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প লেবাননকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করেননি। ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, দখলদার বাহিনী অন্য এলাকায় পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদিও বাস্তবতা হলো, মার্চ মাস থেকে ইসরায়েল তাদের দখল করা কোনো এলাকা থেকেই সেনা প্রত্যাহার করেনি। বরং উল্টো দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে লেবানন-ইসরায়েল কাঠামোর আওতায় পাইলট জোন তৈরির ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইসরায়েলের কোনো দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়নি। এই সমঝোতার প্রধান শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে সামনে আনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আউন এই সমঝোতাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করলেও, নিজ দেশে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

চলতি বছর আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছেন শত শত চিকিৎসক ও সাংবাদিক। এমন প্রেক্ষাপটে আউন লেবাননের সামরিক বাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যা এর আগেও সিরীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিপরীতে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি লেবানন সরকার দিয়েছে, তা হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। আউনের এই নীতিকে অনেকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%