লেবাননে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চাইলেন প্রেসিডেন্ট আউন

যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশতম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠানো এক বার্তায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে আশা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক কাঠামোগত চুক্তির প্রেক্ষাপটে লেবাননের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আউন গুরুত্বারোপ করেন যে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসও এক বার্তায় লেবাননের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ এতে সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তীব্র বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০২ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে বাস্তুচ্যুত ৪ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে এলেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রী হানিন সায়েদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার অস্থায়ী বাসস্থান এবং বাড়িভাড়া সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তবে সরকারি এই উদ্যোগের মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবারও মাজদাল জৌন ও আল-মানসুরি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার নিরাপত্তা বলয়ের ভেতর এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার পর তাদের সৈন্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিপরীতে মাঠপর্যায়ের এই সংঘাত লেবাননের স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষ এখন কেবল অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা