সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করল হুথি বিদ্রোহীরা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কার্যকর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত সপ্তাহে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আনসার আল্লাহ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীটি। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের নতুন এই পর্যায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ’ এই নীতির ভিত্তিতেই তারা এই নৌ-অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, গত ১২ বছর ধরে সৌদি আরব তাদের ওপর অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তাদের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির জবাবে সমোচিত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি আরবের যেকোনো ‘মূর্খতা ও উস্কানি’র জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে হুথি নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। একইসঙ্গে ইয়েমেনের জনগণের প্রতি দেশজুড়ে সাধারণ সংহতি ও সশস্ত্র প্রস্তুতির ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে সানা বিমানবন্দরে হামলার প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
এই নৌ-অবরোধের ঘোষণা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মানদেব প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী, যা দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
২০২৪ সালে এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবাহিত হয়েছে, যা বিশ্ব চাহিদার প্রায় ৫ শতাংশ। হরমোজ প্রণালী আগে থেকেই সংকটের মুখে থাকায় বাবেল মানদেব বন্ধ হওয়া মানে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়া। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
ইয়েমেনের হুথিরা অতীতেও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে এই অবরোধের ঘোষণা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান চলমান যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা