সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকতার বিবর্তন ও বিশ্বসংবাদের নতুন দিগন্ত

ইন্টারনেটের প্রাথমিক যুগে ব্যক্তিগত মতামত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন থেকেই সাংবাদিকতার ডিজিটাল যাত্রার সূচনা হয়েছিল। সেই নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাঞ্জেলফায়ার বা এইটএম-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ওয়েবসাইট তৈরির প্রচেষ্টা মূলত একটি শূন্য উদ্যানে দোকান খোলার মতো ছিল। বিবিসি-তে কর্মরত থাকাকালীন সহকর্মীদের কাছ থেকেই নিজস্ব সংবাদ প্রচারের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন এই প্রতিবেদক, যা পরবর্তীতে তাকে এক আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের মার্চ মাসে লিবিয়ার বিপ্লব নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। মিশরের সাল্লুম গ্রামের সীমান্তে অবস্থানকালে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে কায়রোতে থাকা সহকর্মীর সহায়তায় সংবাদ পরিবেশন করতে হতো। সেই কঠিন সময়ে নিজের পাসওয়ার্ডটি বন্ধুর স্মৃতিতে সুরক্ষিত রেখেই বিশ্বকে লিবিয়ার উত্তাল পরিস্থিতির খবর জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে নিজস্ব স্যাটেলাইট ডিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই সাংবাদিকতার গতিপথ বদলে যায়।

ইরানের পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে বিশ্ব যখন ধোঁয়াশায় ছিল, তখন প্রথাগত সংবাদ সংস্থাগুলোর আগেই আরব ও ইংরেজি ভাষায় চুক্তির খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। আইসিল বিরোধী যুদ্ধের সময়ও এই প্ল্যাটফর্মটি তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করেছিল। এমনকি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বিমান হামলায় কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি এবং আবু মাহদি আল-মুহানদিসের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা প্রথম সারির সাংবাদিক ছিলেন তিনি।

পেশাদারিত্বের বাইরেও এই প্ল্যাটফর্মটি পারিবারিক ইতিহাস পুনরুদ্ধারের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষে নিজের প্রপিতামহ আলী হাশেম এবং দাদা হোসেনের করুণ কাহিনী তুলে ধরার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলে আল-জাজিরায় কর্মরত সহকর্মীদের মাধ্যমে নিজের পূর্বপুরুষের ধ্বংসপ্রায় কবরস্থান সন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কেবল সংবাদ প্রচারই নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতি এবং ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ নিয়ে তার গবেষণাপত্র ‘টুইপ্লোমেসি’র বিষয়বস্তুও ছিল এই প্ল্যাটফর্মটি। বিদ্রূপ ও চটুল আলোচনার জন্য নির্মিত একটি মাধ্যম যে কীভাবে বিশ্বনেতাদের কূটনীতির মঞ্চে পরিণত হতে পারে, তা এই সাংবাদিকের ক্যারিয়ারে এক জীবন্ত দলিল হয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%