হাঙ্গেরিতে প্রেসিডেন্ট তামাশ শুলিয়ককে অপসারণে সংবিধান সংশোধন পাস

হাঙ্গেরির জাতীয় সংসদে দেশটির প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইওককে অপসারণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের প্রভাব বলয় ভাঙার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতার মাজার। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৩৯ জন আইনপ্রণেতা এই সংশোধনীর পক্ষে রায় দিয়েছেন, বিপরীতে ভোট পড়েছে মাত্র ৬টি। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রেসিডেন্ট শুইওকের মেয়াদ অবিলম্বে সমাপ্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।

বিজ্ঞাপন

গত এপ্রিলের নির্বাচনে ভিক্টর ওরবানের ফিতেস দলের ভরাডুবির পর পেতার মাজারের তিসা পার্টি অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে। এরপর থেকেই নতুন সরকার ওরবান আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। নতুন এই সাংবিধানিক সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের পদচ্যুতির পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় সংস্কার, সাবেক সরকারের আর্থিক অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন এবং আইনপ্রণেতাদের জন্য ১২ বছরের মেয়াদের সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাস হওয়া এই বিলে স্বাক্ষর করার জন্য প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইওককে ৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেতার মাজার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যদি স্বেচ্ছায় বিলে সই না করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করবে সংসদ। তবে সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট এবং ফিতেস দলের সদস্যরা বর্জন করেন, যা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাঙ্গেরির সাংবিধানিক আদালতের সাবেক প্রধান হিসেবে তামাশ শুইওককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর আগে শিশু নির্যাতন ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমা ঘোষণার বিতর্কে প্রেসিডেন্ট কাতালিন নোভাক পদত্যাগ করলে শুইওক সেই পদে আসীন হন। কিন্তু তিসা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী মাজার তাঁকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ওরবানের পুতুল হিসেবে অভিহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও আইন অনুমোদন এবং তা সাংবিধানিক আদালতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা তাঁর হাতে রয়েছে। নতুন সরকারের উচ্চাভিলাষী সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট বাধার সৃষ্টি করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই মাজার সরকার ‘অপারেশন ক্লেনজিং ফায়ার’ বা ‘শুদ্ধি অভিযান’ নামে এই সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর আওতায় নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ওরবানপন্থী কর্মকর্তাদের অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%