দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী সহিংসতা তীব্রতর, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী অস্থিরতা চরমে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে মানবিক বিপর্যয় তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জোহানেসবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে বিদেশিদের চিহ্নিত করছে এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা ও অভিবাসীদের উৎখাতের ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের দেশত্যাগের জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্বের হারের জন্য বিদেশিদের দায়ী করে প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, জেনোফোবিয়া বা বিদেশি ভীতিপ্রসূত এই সহিংসতা দমনে সরকারি ব্যর্থতা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার দাবি করছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তবুও ভুক্তভোগীরা বলছেন যে তারা প্রাণভয়ে চিকিৎসা নিতেও যেতে পারছেন না। এমএসএফ-এর জরুরি সমন্বয়ক ক্লেয়ার ওয়াটারহাউস জানিয়েছেন, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদা রক্ষার অধিকার এখন চরম হুমকির মুখে।

সংস্থাটি জানায়, জোহানেসবার্গের লেনাসিয়া অঞ্চলে বসবাসরত মালাউইয়ের এক নাগরিক জানিয়েছেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও বিদেশি হওয়ার কারণে তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। ক্লিনিকের কর্মীরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, বিদেশি হওয়ার কারণে তার কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। এমনকি বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদেশি নাগরিককে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে গত কয়েক সপ্তাহে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। মালাউই সরকারের তথ্যমতে, ৩৮ হাজারেরও বেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন, যার পাশাপাশি ৬০ হাজারের বেশি জিম্বাবুয়ীয় এবং শত শত নাইজেরীয় নাগরিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। জোহানেসবার্গ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ডারবানেও একই ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অবৈধ অভিবাসন নিয়ে জনগণের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে সাধারণ অভিবাসীরা বলছেন, প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%