ইয়েমেনের আকাশসীমায় উত্তেজনা, কঠোর হুঁশিয়ারি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় এক দশক পর একটি ইরানি বেসামরিক উড়োজাহাজ অবতরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
হুথি নিয়ন্ত্রিত সানার বিমানবন্দরে অবতরণ করা ওই ইরানি বিমানে প্রায় ২০০ জন রোগী এবং তেহরানে অনুষ্ঠেয় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশ নিতে যাওয়া একটি প্রতিনিধি দল ছিল। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি যুদ্ধবিমানকে বাধা দেওয়ার কারণেই ওই উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এরপরই সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হুমকিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই হুথিরা এমন উস্কানিমূলক আচরণ করছে। তিনি হুথি মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সৌদি আরবের নাগরিক বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর কোনো প্রকার আঘাত এলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে হোদাইদাহ বন্দর, আস-সালিফ, রাস ইসা এবং সানা বিমানবন্দরসহ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আল-মালিকি উল্লেখ করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে কাউন্সিল এই ঘটনাকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা ইরানকে উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হুথিদের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের পথ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হুথিরা সানা দখল করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সংকটময় পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লোহিত সাগরের নৌপথ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগও নতুন করে সামনে এনেছে সৌদি জোট।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা