মার্কিন স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তিতে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে পোপ ও নিউইয়র্ক মেয়রের কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশতম বার্ষিকীকে সামনে রেখে দেশটির অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে প্রভাবশালী দুই ব্যক্তিত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। পোপ লিও চতুর্দশ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি পৃথক বার্তায় অভিবাসীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তাদের এই বক্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এক প্রকার নীরব প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ভ্যাটিকান থেকে ফিলাডেলফিয়ার ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত রূপকার হিসেবে অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শিকাগোতে জন্ম নেওয়া এই পোপ বলেন, গত ২৫০ বছরে সারা বিশ্বের অগণিত মানুষের কাছে আমেরিকা ছিল স্বাধীনতার প্রতীক, কারণ দেশটি অভিবাসীদের জন্য তার দরজা উন্মুক্ত রেখেছিল। তিনি সীমান্ত নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের দেশটির মূল আদর্শে ফিরে আসার অনুরোধ জানান।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তার বক্তব্যে অভিবাসীদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রায় ৯০ লাখ মানুষের শহর নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে তিনি সাম্প্রতিককালে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ঘিরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী মনে করে যে আমেরিকা কেবল নির্দিষ্ট গাত্রবর্ণ বা নির্দিষ্ট উচ্চারণভঙ্গির মানুষের জন্য। তিনি এমন সংকীর্ণ মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা বৈচিত্র্যকে ভয় পায় তারা মূলত নিজেদের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণে অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী স্টিফেন মিলারের পরামর্শে হোয়াইট হাউজ বর্তমানে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিলেও, আশ্রয়প্রার্থীদের সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতাকে ‘জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মিলার।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশতম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে সমবেত হয়েছেন। সেখান থেকে তিনি স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে জাতিকে উদ্দেশ করে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে পোপ ও মেয়রের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভিন্ন সুর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আদর্শিক সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে একদিকে অভিবাসীবান্ধব উদারনীতি আর অন্যদিকে জাতীয়তাবাদের কঠোর রক্ষণশীলতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা