অর্থনীতি চাঙ্গা করতে জার্মানির বড় সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা চ্যান্সেলর মার্জের

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির চাকা সচল করা এবং কট্টর ডানপন্থীদের উত্থানের মুখে জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। বৃহস্পতিবার বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘রিভাইভাল অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’ বা পুনরুজ্জীবন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। অভ্যন্তরীণ স্থবিরতা ও নানা রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা জোট সরকার ৩৪টি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে জার্মানির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য বছরে ১০ বিলিয়ন ইউরো বা ১১.৪ বিলিয়ন ডলারের আয়কর ছাড় দেওয়া হবে। শীর্ষ আয়ের মানুষদের ওপর আরোপিত সারচার্জ পুনর্গঠনের মাধ্যমে এই কর ছাড়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। চ্যান্সেলর মার্জ স্বীকার করেছেন যে, চড়া জ্বালানি মূল্য, চীনের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির চাপে দেশটির শিল্প খাত বিপর্যস্ত, যা কাটিয়ে উঠতে এই উদ্যোগ জরুরি ছিল।
নতুন এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা এবং শ্রমবাজারে গতিশীলতা আনা। কর্মীদের অনুপস্থিতি রোধে মহামারিকালীন টেলিফোনে অসুস্থতার সনদ নেওয়ার সুবিধা বাতিল করা হয়েছে; এখন থেকে অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসকের সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন শিথিল করে বিনা কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদী চুক্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪৮ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং অনেক ব্যবসায়িক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
পেনশন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার গঠিত কমিশনের ৩৩টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জোট সরকার। এর আওতায় ২০৩১ সালের পর গড় আয়ুর সাথে অবসর গ্রহণের বয়সকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে, যা বর্তমান ৬৭ বছরের আইনি সীমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিছু প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৯০ সালের দিকে এই বয়সসীমা ৭০ বছরে পৌঁছাতে পারে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডয়চে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যারিয়ন মুলবার্গের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি জার্মানির অন্যতম বৃহত্তম সংস্কার প্যাকেজ। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করবে। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য বুন্ডেস্ট্যাগ বা নিম্নকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া আয়কর সংস্কারের বিষয়টি আপার চেম্বার বুন্ডেসরাটের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে, যারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
